ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, ৫ আগস্টের পরে আমরা আরেকটি ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়েছি। ’৭১ এবং ’২৪ এর পরাজিত শক্তি গোপনে গোপনে প্রেম করে আবারও বাংলাদেশের ভিতরে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কোনো পরাজিত শক্তিই বাংলাদেশের পক্ষে নেই। কেউ দিল্লির সঙ্গে আবার কেউ ইসলামাবাদের সঙ্গে প্রেম করছে। আর তারেক রহমানের কর্মীরা বাংলাদেশের দাস। বাংলাদেশের বাইরে আমাদের কোনো ঠিকানা নেই।
গতকাল বিকেলে বরগুনা পৌরশহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় জেলা ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে আমানউল্লাহ আমান বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রিপরিষদ এবং ৩৫০ জন এমপির মধ্যে শেখ পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজন ছিল ৫৮ জন। এরা ৫ আগস্টের পূর্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ফেলে রেখে বাংলাদেশ থেকে চলে গেছেন। শেখ হাসিনা যদি আওয়ামী লীগের নেত্রীই হতো তাহলে অন্তত তার একজন আত্মীয় দেশে থাকতো। আজকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিপদে পড়ে আছেন, আর নয়াদিল্লি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে উসকানি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ারও ন্যূনতম কোনো যোগ্যতা রাখেন না।
তিনি আরও বলেন, মধ্য জুলাইয়ের পর এক থেকে দুই আগস্টের মধ্যে হাসিনা তার সব আত্মীয় স্বজনকে বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে বিদেশে পাঠিয়েছেন। পরে ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সশস্ত্র হামলা করতে বলেন। যেহেতু সে জানতো তাকে পালাতে হবে, তাহলে কেন তার নেতাকর্মীদের বিপদে ফেললো। এ ছাড়াও হাসিনা ’৭৫ এর বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে এসেছিল সাধারণ মানুষের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। তিনি সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে দিল্লির দাসত্ব করেছেন। এ কারণেই তিনি বলেছেন আমরা ভারতকে যা দিয়েছি ভারত তা সারা জীবন মনে রাখবে। শেখ হাসিনা তার বাপের বাড়ি ৩২ নম্বর, টুঙ্গিপাড়া তো ভারতকে দেয়নি, দিয়েছে আমাদের সম্পদ।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্র এক— অনেকের এমন মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, যদি একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কোনো গনঅভ্যুত্থান হয় তাহলে তারা জনগণের বিপক্ষের শক্তি। ১৯৭১ সালে জামায়াত, ৯০ সালে এরশাদ এবং ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে মানুষ দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একমাত্র জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বিপক্ষে কোনো মানুষ দাঁড়ায়নি। সুতরাং বিএনপি গণমানুষ ও বাংলাদেশের দাসত্বের একটি দল। এ দলের ঠিকানা বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও নেই। এ কারণেই আওয়ামী লীগ আর বিএনপি কখনোই এক নয়। আওয়ামী লীগের নেত্রীকে বাংলাদেশের মানুষ জুতা এবং ঝাড়ু দিয়ে তাড়িয়েছে। আর বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি বলেছেন বাংলাদেশের বাইরে আর কোনো ঠিকানা নেই বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। এছাড়াও শেখ হাসিনার ছেলে মদ্যপ অবস্থায় ৮ বার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কিন্তু তারেক রহমানকে অস্ত্রের মুখে রাজনীতি ছাড়তে বললেও বাংলাদেশের মানুষের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।
বরগুনার ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ৫ তারিখের আগে ছাত্র রাজনীতির যে রূপ ছিল তা পরিবর্তন হয়ে গেছে। ৫ তারিখে আগে একটি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিল। তাদের কেউ কেউ ছাত্রলীগের পদও নিয়েছিল। এখন হঠাৎ করে দেখি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠনের নেতা, মহানগরের নেতা। তাদের দেখে অনেকে মনে করেন এরা ছাত্রলীগ। তাদের কিন্তু ষড়যন্ত্র চলছে। ৫ তারিখের আন্দোলনে তারাও রাস্তায় ছিল, আমরাও রাস্তায় ছিলাম। আমাদের বিশ্বাস ছিল তারা বাংলাদেশের পক্ষের হয়ে কাজ করবে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের জন্য এই গুপ্ত সংগঠনই দায়ী। এদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে ।