আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদনে ইসরায়েল দেরি করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রোববার থেকেই যুদ্ধবিরতি হবে। তবে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্ততপক্ষে ৮৬ জন মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে চুক্তি অনুমোদন করার কথা ছিল। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস এখনও কিছু ছাড় চায়। তাই চুক্তির অনুমোদন করেনি ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। ইসরায়েলের মিডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার বা শনিবার মন্ত্রিসভা এই চুক্তি অনুমোদন করতে পারে।
অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, চুক্তির কয়েকটি আলগা বিষয় ঠিক করা হচ্ছে। রোববার গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি ওয়াশিংটনে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আমরা এমন কিছু দেখছি না, যাতে বলতে হবে, এই প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে।”
নামপ্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “হামাস যে বন্দিদের মুক্তি দিতে চাইছে, তাদের কয়েকজনের পরিচয় নিয়ে বিরোধ আছে। জো বাইডেন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতরা এখনও দোহায় আছেন। তারা কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।”
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে বন্দিদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, তিনি যেন দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।
ইসরায়েলের মিডিয়ায় পরিবারগুলোর যে বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তারা বলেছেন, “৯৮ জন বন্দির পরিবারের কাছে প্রতিটি রাত হলো দুঃস্বপ্নের। তাই বন্দিদের মুক্তির ক্ষেত্রে যেন আর একটাও রাত দেরি না হয়।”
হামাসের নেতা ইজ্জত রেশিক জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধবিরতির চুক্তি পালনে দায়বদ্ধ।
এর আগে বুধবার যুদ্ধবিরতির খবরে গাজার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কিন্তু তাদের এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ, ইসরায়েল বুধবারও বিমান হামলা করেছে। ইসরায়েল এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেনি। তাদের মন্ত্রিসভা ও সরকার চুক্তি অনুমোদন করেনি।
নেতানিয়াহুর অফিস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা যখন তাদের জানাবে যে, হামাস সবকটি শর্ত মেনেছে, তারপর তারা চুক্তি অনুমোদন করবেন।
ইসরায়েলের মিডিয়া বলেছে, শুক্রবার বা শনিবার মন্ত্রিসভায় চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর অফিস, এরকম কোনও সময়সীমা দেয়নি। জেরুজালেমে যুদ্ধবিরতির প্রতিবাদ করে বিক্ষোভও হয়েছে। তবে পুলিশ সেই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।