নিজস্ব প্রতিবেদক:বরিশালের মুলাদী এলাকায় চাঞ্চল্যকর রুবেল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামি আরিফ’কে গ্রেপ্তার র্যাব-১০। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে র্যাব-১০ এর উপ পরিচালক আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বরিশালের মুলাদী থানার টুমচর এলাকায় বসবাসকারী রুবেল শাহ তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তাদের বাড়ির কাছের জাগরনী বাজারে যাওয়ার জন্য রওনা করে। পরে সকাল আটটার সময় টুমচর এলাকার একটি পাকা রাস্তার উপরে যাওয়া মাত্র আগে থেকে ওৎপেতে থাকা আরিফ আকনসহ ২৪ থেকে ৩৫ জন লোক আগ থেকে শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুবেলের উপর হামলা করে। এ সময় তারা রুবেলের স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে আটকে রাখে এবং ভুক্তভোগী রুবেলকে ঝাপটে ধরে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাপাতি ও রাম দা দিয়ে এলোপাথাড়িভাবে কোপাতে থাকে। একপর্যায় রুবেলের স্ত্রী ও মেয়ের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসলে আরিফসহ অন্যান্য আসামিরা রুবেলের স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে রুবেলকে কেউ বাচাতে আসলে বা মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে রুবেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে রুবেলের স্ত্রী ও সন্তানরা স্থানীয় লোকজনদের সহযোগীতায় রুবেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভ্যান যোগে চিকিৎসার জন্য কাছের কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেল মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় নিহত রুবেলের স্ত্রী মোছা. নার্গিস বেগম বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার সময় র্যাব-১০ এর ওই দল গোয়েন্দা তথ্যের যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে আরিফ আকন গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রুবেলের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, রুবেল ওই হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মামলা হওয়ার পর থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আরিফ আকন বরিশাল জেলার মুলাদি থানার টুমচর গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান আকনের ছেলে।
এনডিটিভিবিডি/১৭জানুয়ারি/এএ