ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামে সৈয়দ এমরান টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন বিশিষ্ট ওয়েল্ডিং বিশারদ সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরানএ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে তিনি প্রাথমিক যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণের উপর জোর দিতে হবে, এজন্য তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তার মতে "আপনার স্বপ্নের দিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যান! আপনি যে জীবন কল্পনা করেছেন তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে।" প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে এবং দেশের বেকারত্ব হ্রাস করতে ব্যবহৃত হয়, এর সাথে, বিদেশে এই ধরনের চাকরি শুধু দেশের বেকারত্বই কমায় না, একজন স্বাপ্নিক প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বৃদ্ধি করে ।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান বলেন, শিক্ষা নিঃসন্দেহে আলোকিত মানুষের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ কিন্তু একটি সফল জীবন জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি কম শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে কর্ম সংস্থানের কথা বলতে চাচ্ছি, তাহলে সে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম এবং আগামী দিনে তার জীবনকে পরিপূর্ণ করতে পারবে।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য অর্জনের লক্ষ্যে ইমরান টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের স্বপ্ন দেখেন। তিনি সারা বিশ্বে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। এ স্বপ্ন পুরনে আমার এ উদ্যোগ প্রতি বছর কমপক্ষে ৬ হাজার দক্ষ গড়ে তোলা সম্ভব।
সৈয়দ ইমরান কর্মজীবনের শুরুতে মেজর (অব) তানিমের ব্লু স্টার কোং মাধ্যমে ওয়েলডিং পেশায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বিদেশে সাইফান ওয়েলডিং কোম্পানীতে আরো উন্নত প্রশিক্ষন নেন। উল্লেখ্য সাইফান ওয়েলডিং কোং তখন বিশ্বমানের ক্ষেত্রে ছিল দ্বিতীয়। পরবর্তীতে শার্জাতে সাগরের মধ্যে পাইপ স্থাপনে ওয়েলডিং কাজে দক্ষতা অর্জন করেন।
এক পর্যায়ে দেশে ফিরে সরকারের ওয়াশা, সিটি কর্পোরেশন ও সরকারী এবং বেসরকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানে কারিগরি কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এখন তিনি তার জীবনের অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই ইমরান কারিগরি ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলতে চান এবং এর মাধ্যমে অল্প শিক্ষিত যুবকদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান।
বিদেশী বাজারে কাজ করে, তিনি জাতীয় উন্নয়নে একটি অসামান্য ভূমিকা পালনের পাশাপাশি তার পরিবারের জন্য একটি সফল এবং আরামদায়ক জীবন নিশ্চিত করতে পারেন। বিদেশের বাজারের জন্য কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত জরুরী।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বর্ধিত গুরুত্ব দিতে অভ্যস্ত। এই মন্ত্রণালয় গঠনের উদ্দেশ্য প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করা। সৈয়দ ইমরান বলেন, মন্ত্রণালয় রেমিটেন্সের প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং দেশের সব অঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করে সকল অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পাশাপাশি কারিগরি দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, দক্ষতার উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত যার মাধ্যমে পরিকল্পিত মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ১৯৮৬ সালে তৎকালীন জনশক্তি উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি যৌথ বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি বিদেশী কর্মসংস্থানের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ এবং প্রেরণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে, বিএমইটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভিবাসন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করে, অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা ও রক্ষা করে এবং দেশের জনগণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান করে।
বাংলাদেশে দুই ধরনের প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা আছেÑ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক। শিক্ষাগত, বৃত্তিমূলক এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ। প্রতিষ্ঠান দ্বারা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং চাকরির প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এনডিটিভি/এলএ